ট্যানারি স্থানান্তরে সরকারি সিদ্ধান্তে অটল থাকার আহ্বান

শীর্ষরিপো্র্ট ডটকম।  ৪ এপ্রিল  ২০১৬

ট্যানারি স্থানান্তরে সরকারি সিদ্ধান্তে অটল থাকার আহ্বান

ট্যানারি স্থানান্তরে সরকারি সিদ্ধান্তে অটল থাকার আহ্বান

রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরে সরকারি সিদ্ধান্তে অটল থাকার আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)।

সোমবাব রাজধানীর কলাবাগানের বেসরকারি সংস্থা পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) কার্যালয়ে ‘ট্যানারি স্থানান্তর: উদ্ভূত পরিস্থিতি ও করণীয় ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সরকারের সব ধরনের সহযোগিতা থাকা সত্ত্বেও মালিকদের সদিচ্ছা কারণে ট্যানারি স্থানান্তর হচ্ছে না। যদি ট্যানারি স্থানান্তরে বিষয়ে নেয়া সরকারের কঠোর সিদ্ধান্তে অটল থাকে তাহলে এটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এজন্য যেসব ট্যানারি স্থানান্তরে ব্যর্থ হবে তাদের সাভারে প্লট বাতিলসহ হাজারীবাগে ট্যানারির গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে অবিলম্বে সরকারকে সব কারখানা বন্ধ করে দেওয়া দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান, সহ-সম্পাদক প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ, প্রিভেন্টভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী প্রমুখ।

সম্মেলনে আরো বলা হয়, হাজারীবাগের ট্যানারিসমূহ দীর্ঘ ৬৫ বছর বুড়িগঙ্গা নদী দূষণ করে যাচ্ছে। হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো দৈনিক ২২ হাজার ঘনমিটার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলছে। যা পানি, বায়ু, মাটি দূষণসহ জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে চলছে।

সংস্থাটি বলে, ট্যানারি স্থানান্তর না করার ফলে প্রতিনিয়ত বুড়িগঙ্গাসহ রাজধানী ঢাকায় দূষণের মাত্রা বাড়ছে। যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া ট্যানারিগুলো পরিবেশবান্ধব না হওয়ায় রফতানি নিষেধাজ্ঞার আশংকা করেন তারা।

সাভারের চামড়া শিল্প নগরীর কার্যক্রম বর্ণনা করে আবু নাসের খান বলেন, সাভারে শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহের শিল্প ভবন নির্মাণ অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে। যে ২৮ টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ট্যানিং ড্রাম স্থাপনের কাজ চলছে তার প্রায় সবগুলোতেই বিদ্যুৎ সাবস্টেশন নির্মাণ করা হয়নি। ফলে সবকিছু প্রস্তুত হলেও বিদ্যুতের অভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু করা সম্ভব হবে না। এখনও প্রতিষ্ঠানগুলো বর্জ্য স্কিনিং ও মূল পাইপ লাইনে সংযোগ স্থাপন করেনি। তবে ট্যানারি মালিকদের যদি সদিচ্ছা থাকে তাহলে আগামী ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে অন্তত ২৮টি প্রতিষ্ঠান চামড়া প্রক্রিয়াজাতের প্রাথমিক কাজ শুরু করতে পারবে।

তিনি বলেন, সরেজমিনে আমরা দেখেছি, চামড়া শিল্প নগরীতে সিইটিপির দুটি মডিউলের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু বর্জ্যের অভাবে তা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ট্যানারি স্থানান্তর না করলে অনতিবিলম্বে কারখানাগুলোর গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি ট্যানারি মালিকদের ক্ষতিপূরণবাবদ ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আদায় এবং সিইটিপি বাস্তবায়নসহ প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম নির্দিষ্ঠ সমযে সমাপ্ত না হওয়ায় সংশ্লিষ্ঠদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানায় পবা।

 

Related posts