চার দেশের যান চলাচল জুলাই থেকে

শীর্ষরিপো্র্ট ডটকম।  ১৬  মার্চ  ২০১৬

 

চার দেশের যান চলাচল জুলাই থেকে

চার দেশের যান চলাচল জুলাই থেকে

আগামী জুলাই মাস থেকে বাংলাদেশ-ভারত-ভুটান-নেপাল (বিবিআইএন) এই চার দেশের মধ্যে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল শুরু হবে। এ লক্ষ্যে আগামী ২৯-৩০ মার্চ ঢাকা বিবিআইএন’র ওয়ার্কিং গ্রুপের দ্বিতীয় পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

এই সম্মেলনে বিবিআইএন’র মোটর ভেহিক্যাল অ্যাগ্রিমেন্ট (এমভিএ) চুক্তির আলোকে চার দেশের মধ্যে যানবাহন চলাচলের রুটগুলো অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রটোকলের বিষয়ে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে। এছাড়া বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যান চলাচলের আরও দুই রুটের অনুমোদন নিয়ে আলোচনা করা হবে।

এ ব্যাপারে বুধবার (১৬ মার্চ) সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন সিংলার একান্ত সাক্ষাৎ শেষে মন্ত্রী’র পক্ষে জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাসের এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপালের মধ্যে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলের জন্য বিবিআইএন মোটর ভেহিক্যাল অ্যাগ্রিমেন্ট (এমভিএ) চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় গত বছরের ১৫ জুন। ২০১৫ সালের ৩০-৩১ জানুয়ারি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিবিআইএন রোড কানেক্টিভিটি চুক্তির বিষয়ে একমত হয় চার দেশ।

সার্কভুক্ত এই চার দেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ থেকে ৪টি রুটে যান চলাচলের আলোচনা করা হয়। তাই এই বিষয়ে ফেইম ওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট ও প্রটোকল বিষয়ে আলোচনার জন্য গত বছর ৮-৯ সেপ্টেম্বর চার দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের ১৫ জন, ভারতের ১১ জন এবং ভুটান ও নেপালের ৬ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।

যুগ্ম সচিব পদমর্যাদায় এই সম্মেলনকে বলা হয় নোডাল অফিসারদের বৈঠক। এবার আগামী ২৯-৩০ মার্চ দ্বিতীয় পর্যায় বিবিআইএন’র ওয়ার্কিং গ্রুপের এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশ থেকে ৪টি রুটের পরিবর্তে আরও দুটি নতুন রুট নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া নেপাল ও ভুটানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে তাদের পার্লামেন্টের অনুমতির বিষয়ে সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হবে।

সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এমএএন ছিদ্দিক বলেন, চার দেশের মধ্যে যান চলাচল বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে ভুটান এখনও সংসদে অনুমোদন দেয়া হয়নি। আগামী মাসে তাদের সংসদ বসলে অনুমোদন দেয়া হবে বলে আমাদের জানানো হয়েছে। তাই মার্চ মাসের শেষ দিকে বিবিআইএন নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, আঞ্চলিক বাণিজ্য সহজ করতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের সমন্বয়ে ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠা হয় দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বা সাসেক। এর পরই দেশগুলোর মধ্যে সড়ক করিডোর চিহ্নিত করা হয়। তাই গত বছর ১৫ জুন ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের মধ্যে যাত্রী, ব্যক্তিগত ও পণ্যবাহী যান চলাচলের নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে মোটরযান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর আওতায় বাধা ছাড়াই পণ্য ও যাত্রীবাহী মোটরযান চলাচল করতে পারবে চার দেশে। দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে নিয়মিত বাস-ট্রাক চলাচল করবে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়িতেও চার দেশ ভ্রমণ করা যাবে।

সার্কভুক্ত এই চার দেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ থেকে ৬টি রুটে যান চলাচল করতে পারবে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে ভুটানের মধ্যে দুই রুট ব্যবহার করা যাবে। এগুলো হলো- ঢাকা-বুড়িমারী-চ্যাংড়াবান্ধা হয়ে ভারতের মধ্য দিয়ে ৯০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জয়গাঁও-ফুয়েসারেং হয়ে থিম্পু; অন্যটি ঢাকা-সিলেট-শিলং-গৌহাটি হয়ে থিম্পু।

সম্প্রতি ঢাকা-শিলং-গৌহাটি পথে বাস চলাচল উদ্বোধন করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা থেকে নেপাল যেতে দু’টি রুট ব্যবহার করা যাবে এটি হলো ঢাকা-বাংলাবান্ধা-ফুলগাড়ীর বর্ডার হয়ে ভারতের মধ্যে ৩৭ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে কাকারভিটা-পানির ট্যাংক হয়ে নেপাল-কাঠমান্ডু। অন্যটি হলো ঢাকা-বুড়িমারী-চেংরাবান্দা এ দুটি পথ ব্যবহার করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। আর ঢাকা থেকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পৌঁছাতে হবে বাংলাদেশের যশোর সীমান্তের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে কলকাতা হয়ে।

এছাড়া বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার তেগামুখ সীমান্ত ও খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় সীমান্তের আরও দুটি নতুন রুট চেয়েছে ভারত। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ভারতের পক্ষ থেকে এই দু’টি রুটের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর জন্য বাংলাদেশের খাগড়াছড়ির রামগড় ও ত্রিপুরার সাবরুম সীমান্তের ফেনী নদীতে ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে।

 

 

 

Related posts