সর্বশেষ জরিপে হিলারি ৩ পয়েন্টে এগিয়ে

শীর্ষরিপো্র্ট ডটকম ।  ৪  নভেম্বর  ২০১৬

সর্বশেষ জরিপে হিলারি ৩ পয়েন্টে এগিয়ে

সর্বশেষ জরিপে হিলারি ৩ পয়েন্টে এগিয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের তুলনায় পিছিয়ে পড়লেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক টাইমস ও সিবিএস নিউজের প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ট্রাম্পের চেয়ে মাত্র ৩ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন হিলারি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের ফের ই-মেইল তদন্ত নিয়ে হিলারি চাপে থাকলেও ট্রাম্প জয়ের নাগাল পাচ্ছেন না।

জরিপে দেখা গেছে, হিলারির পক্ষে ৪৫ শতাংশ ও ট্রাম্পের পক্ষে ৪২ শতাংশ ভোটার সমর্থন দিয়েছেন। তবে অনেকের মতে, নির্বাচনের শেষ সময়ে এসে জরিপ কতটা কাজে লাগবে সে ব্যাপারে নিশ্চিত নয় তারা। কারণ ইতিমধ্যে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখের অধিক মার্কিন নাগরিক তাদের ভোট দিয়ে ফেলেছেন। এজন্য নিউইয়র্ক টাইমস ও সিবিএস নিউজের জরিপ বলছে, জরিপে অংশ নেয়া মার্কিনিদের প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জন বলেছেন তারা ইতিমধ্যেই ভোট দিয়া ফেলেছেন।

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে ব্যক্তিগত ই-মেইল সার্ভার ব্যবহার নিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন হিলারি। ওই বিষয়ে ফের তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে শুক্রবার ঘোষণা দেয় এফবিআই। এফবিআইয়ের এ ঘোষণার পর জাতীয়ভাবে করা বেশ কয়েকটি জরিপের ফলাফলে দেখা গিয়েছিল, ট্রাম্পের সঙ্গে হিলারির এগিয়ে থাকার ব্যবধান কমে গেছে, কোনো কোনো জরিপে ট্রাম্প এগিয়ে গেছেন বলেও দেখা যায়। কিন্তু নিউইয়র্ক টাইমসের জরিপ বলছে, নতুন কোনো তথ্যে ভোটারদের ওপর বড় প্রভাব পড়ছে না।

কিন্তু নিউইয়র্ক টাইমস ও সিবিএস নিউজের জরিপ ছাড়াও বুধবার রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্পের চেয়ে হিলারির এগিয়ে থাকার ব্যবধান ৬ পয়েন্টে এসে দাঁড়ায়। এফবিআইয়ের ঘোষণার আগে গত সপ্তাহেও এই একই ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন হিলারি। হিলারির তদন্ত নিয়ে এফবিআইতে হাঙ্গামা : অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে তদন্ত নিয়ে মার্কিন বিচার বিভাগের সঙ্গেও সংস্থাটির দূরত্ব বেড়েছে। এফবিআই পরিচালক জেমস কমে অনেক ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের নির্দেশনা মানছেন না। এ নিয়ে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও এফবিআইয়ের নেতৃত্বের মধ্যে সংঘাত দেখা দিয়েছে। এফবিআইকে শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল লরেত্তা লিন্সের ওপর চাপ দিচ্ছেন বিচার বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তারা। দুই বিভাগের ডজন খানেক কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানিয়েছে সিএনএন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ মাস ধরে এফবিআইতে হাঙ্গামা ও নৈরাজ্য বিরাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের বিভিন্ন বিষয়ের তদন্ত নিয়ে এ দ্বন্দ্ব আরও ফুঁসে উঠেছে। তবে এ বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে মুখ খোলার ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নাম না প্রকাশের শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এফবিআইয়ের ওয়াশিংটন সদরদফতর ও নিউইয়র্ক অফিসের হাই প্রোফাইল কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, প্রভাবশালী একজনকে রাজনৈতিকভাবে অসুবিধায় ফেলতে অথবা কাউকে রক্ষা করতে এফবিআই তার ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে বিভিন্ন তদন্ত চালাচ্ছে। এর মধ্যে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের দুর্নীতি তদন্ত নিয়ে কর্মকর্তাদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একটি গোপন রেকর্ড ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের হাতে এসেছে।

গত জুলাইয়ে এফবিআই পরিচালক জেমস কমে আকস্মিকভাবে ঘোষণা দেন হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইল তদন্ত নিয়ে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন করা হবে না। জনসম্মুখে নজিরবিহীন এ ঘোষণা দেয়ার আগে নিয়ম থাকলেও বিচার বিভাগকে অবহিত করা হয়নি। আবার নির্বাচনের আগমুহূর্তে হঠাৎ হিলারির ই-মেইল নিয়ে নতুন তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন। এ বিষয়ে এখনই কথা না বলতে বিচার বিভাগের নির্দেশনা থাকলেও তা মানেননি জেমস কমে।

এফবিআইয়ের কর্মকাণ্ড নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এমন বিতর্ক উঠলেও বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, তিনি গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করবেন না।

মিশিগানে হিলারির পক্ষে বাংলাদেশীদের র‌্যালি : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে মিশিগানে বাংলাদেশী-আমেরিকানদের আয়োজনে হিলারির পক্ষে নির্বাচনী র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় সময় আগামীকাল শনিবার বিকালে হামট্রামিকে অনুষ্ঠিতব্য এ র‌্যালিতে যুক্তরাষ্ট্র এবং মিশিগানের সব কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। বাংলাদেশী-আমেরিকানদের ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চলছে প্রচারণা।

যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে মার্কিন নির্বাচনের দিকে। প্রচারণার শেষ সময়ে ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান দুই শিবিরই চরম ব্যস্ত। মিশিগান অঙ্গরাজ্যকে অনেকে রিপাবলিক রাজ্য বললেও ডেট্রয়েট ও এর চারপাশে ডেমোক্রেটদের আধিপত্য। অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশী অধ্যুষিত হামট্রমিক, ট্রয়, রচেস্টার হিলস, নোভাই, কেন্টন, ডেট্রইট, স্টারলিং হাইট, সাউথ ফিল্ড, এনারবার, ওয়ারেনসহ পার্শ্ববর্তী শহরে বাংলাদেশী ভোটারের সংখ্যা নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর বলে মানেন দু’দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

মিশিগানের বাংলাদেশী-আমেরিকানদের সংগঠন মিশিগান বাংলাদেশ ডেমোক্রেটস ককাস (মি-বিএডিসি) প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশী-আমেরিকান ভোটারদের অধিকার নিয়ে কাজ করে আসছে। প্রেসিডেন্ট ডিবেটসহ সব আলোচনায় এবারের নির্বাচন ইমিগ্রান্টদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আর এ নির্বাচনে বাংলাদেশী ভোটারদের উপস্থিতি জানান দিতে বিএডিসি শনিবার বিশাল ইলেকশন র‌্যালির আয়োজন করছে।

 

Related posts