মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নাগরিকের, এনজিও’র জন্য নয়: সুরঞ্জিত

শীর্ষরিপো্র্ট ডটকম ।  ১৯  অক্টোবর  ২০১৬

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নাগরিকের, এনজিও'র জন্য নয়: সুরঞ্জিত

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নাগরিকের, এনজিও’র জন্য নয়: সুরঞ্জিত

‘বিদ্বেষমূলক বা রাষ্ট্রবিরোধী’ বক্তব্যের জন্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা-এনজিও’র নিবন্ধন বাতিলের বিধান রেখে পাস হওয়া আইনের বিরোধিতার সমালোচনা করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

তিনি বলেছেন, ‘গণমাধ্যমের যে অধিকার আছে, এনজিওর সেটা নেই। ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন নাগরিকের জন্য। এনজিও এখানে অনেক ইনফেরিয়র। তাদের আইন মেনেই চলতে হবে।’

গত ৫ অক্টোবর সংসদে বিলটি পাসের পর এনজিওগুলোসহ তাদের অর্থায়নকারী বিভিন্ন দেশের অব্যাহত সমালোচনার মুখে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এসব কথা বলেন।

গত বছর সংসদকে নিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের এক বক্তব্যে তীব্র অসন্তোষ জানানোর পর প্রক্রিয়াধীন ওই আইনে ‘বিদ্বেষমূলক বা রাষ্ট্রবিরোধী’ বক্তব্যের জন্য নিবন্ধন বাতিলের ওই ধারাটি যুক্ত করেছিল সুরঞ্জিতের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় কমিটি।

ওই ধারাটিসহ আইনটি (বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন বিল-২০১৬) গত ৫ অক্টোবর সংসদে পাস হয়।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, ‘কোনো এনজিও বা ব্যক্তি এই আইনের কোনো বিধান লংঘন করলে এবং সংবিধান ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক বা অশালীন মন্তব্য করলে বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আইন অমান্য করলে যে কোনো সময় নিবন্ধন বাতিল বা স্থগিত করা যাবে। এনজিও-তে বিদেশী উপদেষ্টা নিয়োগের ক্ষেত্রেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ছাড় নিতে হবে।’

আইনটি পাস হওয়ার পর কড়া সমালোচনার জবাবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘একটা সার্বভৌম সংসদকে তো কোনো ফরেন বডি গালি দিতে পারে না। তাহলে সার্বভৌমত্ব থাকে না। পৃথিবীর কোথাও এটা নেই। কাজ করতে হলে এ আইনের অধীনে করতে হবে।’

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এনজিও সাধারণ আইনের দ্বারা জন্ম নিয়েছে। কিন্তু গণমাধ্যমকে সংবিধানের অধীনে একটা আইনের মাধ্যমে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। তোমরা (গণমাধ্যম) বলতে পার। তোমাদের মানবাধিকারের প্রটেকশন আছে। কোনো ফরেন বডির তো সেটা নেই।’

প্রবীণ এই আইন প্রণেতা বলেন, ‘একজন নাগরিক মতপ্রকাশ করে অনেক কথা বলবে, সেটা তার অধিকার। এনজিও আইনের অধীনে কাজ করবে, এটাই দুনিয়া জোড়া রীতি।’

 

এনজিওগুলোর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘যদি বিরোধী দলের মতো কথা বলতেই হয় তাহলে অপজিশনে যাও।’

এসময় প্রবীণ এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘কয়েকদিন যাবৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইন পত্রিকাসহ নানা জায়গায় আমার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পরিবেশিত কিছু তথ্য আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে কেউ কেউ আমার প্রতি সমবেদনা ও সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন আবার কোনোটিতে বিভ্রান্তিমূলক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য আছে বলে আমার মনে হয়েছে।’

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘এসব জায়গায় তথ্য পরিবেশিত হয়েছে যে, আমি নাকি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী আছি। এমনকি আমি কবে কোন তারিখে মৃত্যুবরণ করব, তাও ঘোষণা করা হয়েছে।’

‘মায়েলোডিস প্লাস্টিক সিনড্রোমে’ ভুগছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে এমজিএ হাসপাতালের চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসারত। রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ কম হওয়ায় বোন ম্যারো পরীক্ষার জন্য নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে যাব। এটা ক্যান্সারে টার্ন নেয়ার কোনো আশংকা নেই।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এ সদস্য বলেন, ‘রোগ-শোকে মানুষ এবং এটা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু সেটা নিয়ে কেউ বিশেষ মতলববাজি করবে সেটা কাম্য হতে পারে না।’

 

Related posts