গুডনেস শপ : নৈতিকতা শেখানোর দোকান

শীর্ষরিপো্র্ট ডটকম ।  ২৩ অক্টোবর  ২০১৬

গুডনেস শপ : নৈতিকতা শেখানোর দোকান

গুডনেস শপ : নৈতিকতা শেখানোর দোকান

গুডনেস শপ। এটি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের একটি স্কুলে। স্কুলভবনের বারান্দায় টেবিলে সাজিয়ে রাখা হয়েছে খাতা, পেন্সিল, কলম, জ্যামিতি বক্স, বিস্কুটসহ বিভিন্ন পণ্য। শিক্ষার্থীরা তার প্রয়োজনীয় পণ্যটি এখান থেকে সহজেই কিনে নিতে পারেন।

গুডনেস শপে কেবল ক্রেতারাই আসেন, বিক্রেতার উপস্থিতি থাকেনা। তাই বলে মূল্য পরিশোধে কোন ঝামেলাও নেই। পণ্য রাখা ঝুড়িতেই সাঁটানো আছে পণ্যের মূল্য তালিকা।  পাশে রাখা আছে মূল্য রেখে দেওয়ার কৌটা। শিক্ষার্থীরা সেখানেই মূল্য রেখে যেতে পারেন। আর এই কেনাকাটার এই প্রক্রিয়াটি-ই চলছে সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাসের ওপর ভর করে।

ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া এই স্কুলটির নাম মোহাম্মদপুর গিলাবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। ঠাকুরগাঁও সদরেই স্কুলটির অবস্থান। প্রধান শিক্ষক শাহজাহান-ই-হাবিব স্কুলে কেনাকাটার ব্যতিক্রমী উদ্যোগটির কারণে এখন আলোচনায়। অনেকের কাছেই উদ্যোগটি প্রশংসিত হচ্ছে। তারা মনে করছেন এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি হবে।

সমাজে যখন সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, তখনই ব্যতিক্রম এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা মোহাম্মদপুর গিলাবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ।

ঠাকুরগাঁওয়ের ওই স্কুলে গেলে দেখা যায়, দোকানির পরিবর্তে একটি কাগজে লেখা মূল্যতালিকা পণ্যের ঝুড়িতে লাগানো আছে। আর তাতে খাতা, কলম, পেনসিল, রাবার, স্কেল, পেনসিল কাটার, বিস্কুট সাজিয়ে রাখা আছে। সেখানে একটা কৌটা রাখা। শিশুরা আসছে, যে যার দরকারমতো ঝুড়ি থেকে খাতা, কলম, পেনসিল বা রাবার তুলে নিয়ে কাগজে লেখা দাম দেখে ওই কৌটার মধ্যে নির্দিষ্ট টাকা (দাম) ফেলে চলে যাচ্ছে।

২০১৬ সালের ২২ আগষ্ট ব্যতিক্রমী দোকান চালু করা হয়। বলা হচ্ছে, এটা কোনো দোকান নয়, এটা শিশুদের সততা চর্চার একটা কেন্দ্র।

স্কুলের শিক্ষক ও দোকানটির দেখভালকারী রফিকুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষক স্কুলের শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক করে শিশুদের মধ্যে সততার বোধ জাগানোর জন্য ‘গুডনেস শপ’ চালু করেন। কেনা দামেই সব জিনিস বিক্রির দাম ঠিক করা হয়। কোনো লাভ করা হয় না। বিক্রয় হওয়ার পরে জমা হওয়া টাকা গুনে আবার নতুন করে পণ্য ক্রয় করে আনা হয়।

ওই দোকান থেকে একটা স্কেল কিনতে আসা ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী লিয়া বলেন, ‘বাইরের দোকান থেকে এ দোকানে দাম কম। তা ছাড়া কেউ টাকা চাচ্ছে না, আমি নিজেই টাকা দিয়ে চলে যাচ্ছি। এ জন্য আমার খুব মজা লাগে।’

 

বিদ্যালয়ের সপ্তম, অষ্টম, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিম, রনি, আসমা, মনিরুজ্জামান এবং রিচি আক্তার জানায়, তাদের ক্ষুধা লাগলেই এখান থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে বিস্কুট কিনে এর মূল্য বাক্সে রেখে দেয়। এখানে বাকিতে পণ্য নেওয়ার সুযোগ নেই। যদি টাকা না থাকে তাহলে শিক্ষকদের কাছ থেকে ধার নিয়ে খাবার কেনার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও এখানে কাগজ, কলম, স্কেল বাহিরের থেকে অনেক কম দামে পাওয়া যায়। বাইরের থেকে এখানে পণ্যের দাম ২-৩ টাকা কম হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাহান-ই-হাবিব বলেন, ‘এই দোকানের মাধ্যমে শিশুদের সততা ও সত্যবাদিতা শেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি, এটা ভবিষ্যতে তাদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে ভূমিকা রাখবে।’

তিনি বলেন, ‘মূলত শিক্ষার্থীদের লোভ সংবরণ, সৎ, আদর্শবান এবং একজন দেশ প্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এই দোকানটি খোলা হয়েছে।’

মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো সোহাগ বলেন, এই ধরনের মহতী ও ব্যতিক্রম উদ্যোগের ফলে শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা তৈরি হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা অফিসার মো: শাহিন আক্তার জানান, এই ধরনের চিন্তা-চেতনা শিশু শিক্ষার্থীদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

 

Related posts